চট্টগ্রাম   বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১  

শিরোনাম

গলার ফাঁস পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি


এড. সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী    |    ০৯:৫৬ এএম, ২০২০-০৬-২৮



গলার ফাঁস পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

এড. সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী

গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। আর ১৯৭৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রাধীন বাংলাদেশের বৃহৎ বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উদ্যেগে সারদেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন হয়। এই সংস্থা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে দেশের ৪৯১ উপজেলায় ৮৭ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিতরণ করে আসছে। সারাদেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি তৎমধ্যে ৮৮ লাখ গ্রাহক। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, পটিয়ার আওতায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮টি উপজেলায় ৭১৪৯ কিঃ মিঃ বিতরণ লাইনের মাধ্যমে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৭ জন, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, রাউজানের আওতায় উত্তর চট্টগ্রামের ৩ লাখ ৩৬ হাজার এবং চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩, সীতাকন্ডের আওতায় উত্তর চট্টগ্রামের ২ লাখ ৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সরাাদেশের পল্লী অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে অগ্রযাত্রা করেছিল তা সিকিভাগও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সকল জনগণকে গুণগত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ এই সংস্থার মূল লক্ষ্য হলেও বরং এ সেবা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ও জনদুর্ভোগের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই সমিতি এখন জনগণের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি সাধারণ জনগণের কাছে এখন মহা আতঙ্কের নাম। তাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আঁতকে উঠে। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ জনগণ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ‘ইষ্ট ইন্ডিয়া’ কোম্পানির সাথে তুলনা করেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সীমাহীন শোষণ, লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতা এখন চরমে উঠেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারি দিন দিন বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে।

আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা বিদ্যমান। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা পূর্ব হতে ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ, মিটার ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলের সাথে বাড়তি দিয়ে আসছে। তার ওপর দীর্ঘদিনের ভুতুড়ে বিলের খড়গ। এখন গ্রাহকদের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। মার্চ, এপ্রিল, মে তিন মাসের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের কাছে ভুতুড়ে বিল প্রদান করলে আনোয়ারা সহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। গ্রাহকরা এই অশান্তির বিল নিয়ে ভীষণ ভোগান্তিতে পড়েছে। এসব বিদ্যুৎ বিলের সাথে মিটার রিডিংয়ের ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের অশান্তির বিল সংক্রান্ত অভিযোগের স্তুপ হয়েছে, কিন্তু এসব অভিযোগের কোন সুরাহা হচ্ছে না। করোনা কারণ দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গড় বিল করেছে বলে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি করার অপচেষ্টা করছে। অথচ গড়বিল করার কোন বিধান নেই। এসব ভৌতিক বিল ঠিক করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গেলে তারা উদ্বৃত্ত বিল পরের মাসে সমন্বয় কারার আশ্বাস দিয়ে গ্রাহক হতে বিদ্যুৎ বাড়তি বিল আদায় করছে। গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে অফিস থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও প্রদান করছে। ফলে গ্রাহকরা হয়রানির ভয়ে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছে। যা ইতিমধ্যে পত্রিকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতুড়ে বিল ও বিভিন্ন দুর্নীতির সংবাদ দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। গ্রামের মানুষের সীমিত আয়। তাছাড়া করোনাকালিন সময়ে মানুষে তেমন উপার্জন নেই্। এই দুঃসময়ে বাড়তি বিলের বোঝা নির্মম পরিহাস ব্যতীত আর কি হতে পারে। শুধু করোনাকালীন সময়ে নয় অন্যান্য স্বাভাবিক সময়েও আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার বাড়িতে বাড়িতে মিটার পরিদর্শনে কখনও যান না। মিটার রিডারগণ কথনও কারো বাড়িতে মিটার পরিদর্শনে গিয়েছে তারাও কোন প্রমাণ নেই। মিটার পরিদর্শন ব্যতিরেকে অফিসে বসে ভুতুড়ে বিল প্রস্তুত করে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন যাবৎ ভীষণভাবে হয়রানি করে আসছে। যা আমি নিজেই ভোক্তভোগি। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে এসে প্রাচীন পদ্ধতির মিটার রিডিং কখন দুরীভূত হবে।

এখানে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে হলো। আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আনোয়ারা উপজেলায় ৮৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর জোনাল অফিস রয়েছে উপজেলা সদরে, বটতলীতে রয়েছে এরিয়া অফিস এবং পারকি ও হাইলধরে রয়েছে অভিযোগ কেন্দ্র। আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ সমস্ত অফিস যেন দুর্নীতির আখড়া, এসব অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা অবৈধ টাকার বিনিময়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেন। যেমন-কারো জমি বা ভিটির উপরে পূর্ব থেকে স্থিত পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক তার ও খুটির কারণে কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা দালান, ঘরবাড়ি, দোকান ইত্যাদি নির্মাণে অসুবিধা হলে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিশাল অঙ্কের অবৈধ টাকার বিনিময়ে কৌশলে বৈদুতিক তার ও খুটি ঘুষ প্রদত্ত ব্যক্তির জমি হতে অপরের জমি উপর সরিয়ে দিচ্ছে। এসব অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা অবৈধ টাকার বিনিময়ে আবাসিক, সেচযন্ত্রে ঘুষের বিনিময়ে প্রদান করে। বড় বড় কল কারখানায় অবৈধ সংযোগ প্রদান করে সীমিত পরিমাণে বিল করেন। সে অবৈধ বিলের বোঝা তারা সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেন। তাছাড়া মৎস্য ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আনোয়ারার রায়পুর ও জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক বরফকল গড়ে উঠেছে। ইলিশ বা মৎস্য মৌসুমে এসব এলাকায়প নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ঐ এলাকার বরফকল মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পল্লী বিদ্যুতের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সচল রাখার কারণে উপজেলার অন্যান্য এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। তাছাড়া আনোয়ারা জোনাল ও বটতলী এরিয়া অফিসে সর্বদা বিভিন্ন দালাল ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এসব দালাল বা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মাধ্যমে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে বৈদ্যুতিক মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ অতি দ্রুত সময়ে পাওয়া যায়, অন্যথায় বছরের পর বছর ঘোরাঘুরি করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। গ্রাহকরা যে কোন বিষয়ে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলে কোন প্রতিকার পান না। এখানে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে।

লেখক: কলামিষ্ট, আইনজীবি ও রাজনীতিবিদ

রিলেটেড নিউজ

৩য় বারের মত আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে ইস্কান্দার মির্জা শামীম

৩য় বারের মত আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে ইস্কান্দার মির্জা শামীম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য নির্বাচিত হয়েছে...বিস্তারিত


যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আহবায়ক শওকত ওসমান

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আহবায়ক শওকত ওসমান

কোরবান আলী টিটু, আনোয়ারা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বুধবার (১১ নভেম্বর)। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর দে...বিস্তারিত


যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম ওসমান গনি রাসেল

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম ওসমান গনি রাসেল

কোরবান আলী টিটু, আনোয়ারা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বুধবার (১১ নভেম্বর)। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর দে...বিস্তারিত


কোম্পানীগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার

কোম্পানীগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোম্পানীগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে নোয়াখালীর কোম্...বিস্তারিত


‘আব্বা গো তোর আল্লাহর দোহাই ছাড়ি দে’এ আহাযারির শেষ কোথাই?

‘আব্বা গো তোর আল্লাহর দোহাই ছাড়ি দে’এ আহাযারির শেষ কোথাই?

শাহদাত হোসেন নিশাদ : রবিবার রাত হঠা‍ৎ ফেসবুকে তুমুল ঝড়। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় গোঙাচ্ছে, কাঁদছে এক নারী। সেই সঙ্গে...বিস্তারিত


ইয়েন

ইয়েন"-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক : উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম প্লাটফর্ম "ইয়েন"-এর ১১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

আনোয়ারায় মাস্ক না পরায় ১৮ ব্যক্তির জরিমানা

আনোয়ারায় মাস্ক না পরায় ১৮ ব্যক্তির জরিমানা

কোরবান আলী টিটু, আনোয়ারা প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা এবং মাস্ক না পরায় ১৮ ব্যক্তিকে  জরিমানা...বিস্তারিত


সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ

সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দুধের সম্পূরক মূল্য বৃদ্ধি, করোনা পরিস্থিতিতে খামারিদের ক্ষতি, করোনাকালে দুধ বিক্রি না হওয়া, গো-খা...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর